ভাইব্রোমিটার :-
না। শব্দটা কোন ডিক্শানারিতে নেই। স্বয়ং তিনি এই শব্দটি সংযোজিত করেছেন। ‘ভাইব্রো’ কথাটার উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ ‘ভাইব্রের (Vibrare) থেকে, যার মানে কম্পন। ‘মিটার’ অর্থ পরিমাপক যন্ত্র । মিলেমিশে ভাইরোমিটার’। কম্পন-পরিমাপক যন্ত্র। আসলে এটি একটি ভবিষ্যৎ-‘যন্ত্র, যা ঠাকুর তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এ দিয়ে একসাথে দু’টো কাজ করা যাবে। জীবের শরীর-স্পন্দন (Body - vibration ) মাপা যাবে। প্রয়োজনে, কৃত্রিমভাবে বিশেষ স্পন্দন তৈরি করে জীবশরীরে প্রয়োগও করা যাবে।
খটমট ব্যাপারটা হল, —শরীর-স্পন্দন। সেটা কী? একটা ‘প্যারামিটার’। আমাদের শরীরে অনেকগুলো ‘প্যারামিটার’ রয়েছে, যেগুলির দ্বারা বোঝা যায় গোটা শরীর বা শরীরের বিশেষ কোন অঙ্গ ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা। যেমন, আমাদের দেহের উষ্ণতা ৯৮°F- এর কাছাকাছি। উষ্ণতা এখানে প্যারামিটার’ যার পরিমাপে বুঝি শারীরিক সুস্থতা মোটামুটি বজায় আছে কিনা। রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা, ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দারুণ সুন্দর ‘প্যারামিটার’। এরকম আরও আছে। তেমনি হৃৎস্পন্দন ছাড়াও আরও একপ্রকার শরীর-স্পন্দনের অস্তিত্ব রয়েছে, যা ঠাকুর পরিকল্পিত ‘ভাইরোমিটার’ যন্ত্রের মূল ‘প্যারামিটার’।
শরীর মানে অসংখ্য কোষ। কোষ মানে কোষপর্দা, মাইটোকনড্রিয়া, রাইবোজোম, DNA.... শ’য়ে শ’য়ে নানান রাসায়নিক। তাদের ভাঙলে পাব বিভিন্ন মৌল আর তাদের যৌগিক সমাহার। মৌলকে ভাঙতে ভাঙতে অণু ... পরমাণু। পরমাণুর হৃদয়ে নিউক্লিয়াস। এটা ধনাত্মক তড়িৎযুক্ত। তাকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যাসার্ধের কক্ষপথে সমানে ঘুরে চলেছে ঋণাত্মক তড়িৎযুক্ত ইলেকট্রন। একই পথে যাচ্ছে-আসছে। আসছে-যাচ্ছে। একেই বলে কম্পন। ঠাকুরের ভাষায় এটাই হয়ত ‘Electronic throbbing’। বিভিন্ন শারীরিক অবস্থায় এই ‘Electronic throbbing-এরও হেরফের হয়। তাঁর মতে, ‘তা detect করে - এবং বিহিতভাবে প্রয়োজনমত Vibration টা impart (সঞ্চারণ) বা apply (প্রয়োগ) করার clue (তুক)-টা বার করতে হবে।’ আরও— ‘vibrating current তো সব সময়ই চলছে আমাদের শরীরের মধ্যে। শরীর decay (ক্ষয়প্রাপ্ত) হয়। তার মানে স্নায়ুর স্পন্দন কমে যায়। অন্যরকম হয়।’
‘আমাদের শরীরে স্পন্দন হচ্ছে। অনবরতই তা হচ্ছে। তা কখন কেমন হয় তা ধরা গেলে হত। ঘুমের সময় এক প্রকার স্পন্দন থাকে, খেলাধূলার সময় আর এক প্রকার, অসুখের সময় অন্যরকম। সুস্থ থাকলে আরেকরকম। এগুলি সব যদি যন্ত্রে ধরা যেত, তাহলে অনেক কিছু exposed হত তোমাদের কাছে। হয়ত একটি মানুষ মরে গেছে। তখন সেই মানুষটির tune মাফিক যদি স্পন্দন প্রয়োগ করতে পারতে তা হলে বুঝতে পারতে কী হয়।’
ধরলাম,— Electronic throbbing পরিবর্তিত হচ্ছে বলেই শরীরে গণ্ডগোল। কিন্তু, Electronic throbbing তো পরমাণুতে হয়। এভাবে কোটি কোটি পরমাণুর Electronic throbbing মাপা কি সোজা ব্যাপার? তা নিশ্চয়ই সম্ভব নয়। অন্যভাবে ব্যাপারটাকে একটু দেখা যায় না? অনেক পরমাণু নিয়ে কোষ। বহু পরমাণুর ইলেকট্রন-
কম্পনের পরিবর্তন প্রতিফলিত হবে কোষে। কোষের এই লব্ধি কম্পন প্রতিফলিত হবে অঙ্গে। কারণ, জীবদেহে একটি কোষ আরেকটির সাথে আদান-প্রদানের বাঁধনে বাঁধা। এইভাবে কিডনীর অসুখে পড়লে হয়ত ঐ অঙ্গের (কিডনীর) স্বাভাবিক লব্ধি কম্পনমাত্রা যাবে পরিবর্তিত হয়ে। ‘ভাইরোমিটার’ যন্ত্র দিয়ে সেই কম্পন বা শক্তি উপযুক্ত পথে পাঠালে তাহলে হয়ত ঐ কিডনী আগেকার মত কর্মক্ষম হয়ে উঠলেও উঠতে পারে। গোটা শরীরেরও (সুস্থ অবস্থায়) তেমনি বিশেষ লব্ধি কম্পনমাত্রা আছে। অঙ্গ নষ্ট হয় না, এজাতীয় অকাল মৃত্যুতে (সাপে কাটা, কলেরা, হার্টফেল) ঐ কম্পন প্রয়োগে মৃত ব্যক্তিরও বেঁচে ওঠা অসম্ভব নয়।
“ভাইরোমিটার’ প্রসঙ্গে ঠাকুরের বলা বা তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা হয়ত সামান্যই। তবে, ঐ সামান্যের মধ্যে দিয়ে সত্য দেখার চেষ্টা করলে অসামান্য উপলব্ধি মোটেই অসম্ভব নয়।
স্পন্দন থেকেই শব্দের সৃষ্টি। সুতোর মাথায় ঢিল বেঁধে জোরে ঘোরালে শব্দের সৃষ্টি হয়। এটা আবর্তিত কম্পন বা স্পন্দন। কাঁসার থালা হাত থেকে পড়ে গেলে তার শব্দ অনেকক্ষণ চলতে থাকে। কারণ থালার কানা তখন দারুণভাবে স্পন্দিত হতে থাকে। হাত দিয়ে তা থামিয়ে দিলে আর শব্দ শোনা যাবে না। এটা সরলরৈখিক কম্পন।
কম্পন বা শব্দের যে জীবশরীরে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া আছে তা প্রতিষ্ঠিত সত্য। কোন শব্দকে মনে হয় বিরক্তিকর, কোন শব্দ মধুর। বিজ্ঞান বলে আমাদের এই ভালো লাগা আর না-লাগাটাও কোষের বিচিত্র কর্মকাণ্ডের (রাসায়নিক বিক্রিয়া বা অন্য কিছু) ফল।
গান-বাজনা আমরা পছন্দ করি। এমন এমন গান আছে যা শুনলে আমাদের ভাল লাগে, আমরা সতেজ হয়ে উঠি। আবার এমন গানও আছে যা আমাদের বিষাদময় করে তোলে। যুদ্ধের দামামা এমনভাবে বেজে উঠল, যাতে সৈন্যেরা স্বাভাবিকভাবেই চঞ্চল হয়ে উঠল, উত্তেজনা অনুভব ক’রল। আবার এমন শব্দতরঙ্গ আছে যা শুনে জীব মরে যায় । কোন কম্পন জীবনীয়, আবার কোনটা বা জীবনীয় নয়। একটা সত্তাপোষক আর একটা ধ্বংসাত্মক।
“আনন্দবাজারে” ২১/৫/১৯৬০ তারিখে বেরিয়েছিল যে, ধান গাছের চারার ওপর সঙ্গীতের বিশিষ্ট রাগ বাজিয়ে ধানের ফলন বৃদ্ধি করা হয়েছে পণ্ডিচেরীতে। পণ্ডিচেরী সরকারের উদ্যোগে চিদাম্বরম স্থানে শ্রী এস, পুরুষোত্তমন এই কাজটি করেছিলেন। তাছাড়া ৩/৮/১৯৬০ তারিখের ‘যুগান্তর’ পত্রিকাতে আছে— “সোভিয়েত বিজ্ঞান পরিষদের জীবপদার্থ বিদ্যাভবনের একটি গবেষণাগারে অদ্ভুত ধরনের একটা ফোয়ারা তৈরি করা হয়েছে। জলে ভর্তি একটা প্রকাণ্ড পাত্র থেকে উঠেছে এই ফোয়ারার জল। জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে সরাসরি জলপৃষ্ঠ থেকে এবং জলটা ঠাণ্ডা অবস্থায়ই ফুটছে, টগবগ করছে। এই ফোয়ারাটিকে সক্রিয় রাখা হয়েছে শ্রবণাতীত শব্দতরঙ্গে র (যার কম্পনাঙ্ক ২০,০০০ এর বেশি) প্রয়োগে। ভুট্টার বীজ বোনার আগে ঐ বীজকে জলে ডুবিয়ে রেখে এই শব্দ তরঙ্গের ক্রিয়া ঘটিয়েও আশ্চর্য ফল পাওয়া গেছে। এতে বীজ থেকে উদ্গত অঙ্কুরের কাণ্ড সাধারণ কাণ্ডের প্রায় দ্বিগুণ লম্বা হ’য়ে থাকে। এই ভুট্টা গাছ পাতা মেলে অনেক ‘আগে এবং এই গাছের ভুট্টাও হয় অনেক বড় আকারের। এই বৃহদাকারভু ট্টার খাদ্যগুণ ঢের বেশি।”
“যেথায় যেমন যে স্পন্দনে
সত্তাটির হয় অবস্থিতি,
সেই স্পন্দনা আয়ত্ত ক’রে
আনো জীবনের সুসংস্থিতি।” –শ্রীশ্রীঠাকুর
এমন কম্পনও আছে যা সতত জীবনীয়। কোন সময়েই তা ধ্বংস আনে না। এই কম্পনের সমবায়ে যোজিত ধুন বা ধ্বনিকেই বীজনাম বলে থাকে। এই নামই সৃষ্টির আদিম উৎস। এরূপ বীজনাম বা আদিধ্বনি আছে বলেই সৃষ্টি চলছে, চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। একদিন হয়ত এই তত্ত্ব বৈজ্ঞানিক প্রমাণের আওতায় এসে যাবে। আবার এও শোনা যায়, যুদ্ধ চলছে, আহত সৈন্যরা তাঁবুতে শুয়ে আছে। হঠাৎ কামানের শব্দ হ’ল ভীষণ গর্জনে, সৈন্যরা দেওয়ালের সাথে মাথা ঠোকাঠুকি আরম্ভ করে দিল, পাগল হয়ে গেল। আবার এও দেখা যায় যে, মাথার এক পাশ দিয়ে বন্দুকের গুলি চলে গেল। এমন কম্পন সৃষ্টি করে দিয়ে গেল তার মাথার মধ্যে বা এমন কিছু সংঘটিত হ’য়ে গেল সেখানে, যার ফলে সেই লোক দিনে-কালে হয়ত এক বিরাট সৈন্যা ধ্যক্ষ হয়ে উঠল। এসবই কম্পনের নানান প্রভাবের কথা।
বৈচিত্র্যময় নিজের জীবনেও ঠাকুর এই কম্পনের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। ‘নামে’র মাধ্যমে। ‘নাম’ হল এমন একটি শব্দ যা বার বার মানস-আবৃত্তি করলে দেহে বিশেষ কম্পনের সৃষ্টি হয়। দীক্ষাগ্রহণের সময় এই ‘নাম’ আর জপ-পদ্ধতি দীক্ষাগ্রহণকারীকে শিখিয়ে দেওয়া হয়। খুব বেশি নাম করলে নামের ঐ কম্পন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কোন বিশেষ বস্তুর দিকে তাকিয়ে ‘নাম’ করলে হয়ত সেই কম্পনকে দৃষ্টিলক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত করা যেতে পারে।
শ্রীশ্রীঠাকুর একদিন পায়খানায় গিয়ে দেখেন, — অদূরে একটি তেলাপোকা মৃত অবস্থায় চিৎ হয়ে পড়ে আছে। তেলাপোকাটি যে মৃত এ-বিষয়ে তিনি নিঃসন্দেহ। তিনি তেলাপোকাটির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকলেন। এবং মনে মনে নাম করতে লাগলেন। আধ ঘন্টা বাদে তেলাপোকাটি হাতপা নাড়তে লাগল। আরো খানিক বাদে অর্থাৎ ৪০/৫০ মিনিট পরে তেলাপোকাটি নড়ে-চড়ে উপুড় হয়ে উঠে হেঁটে চলে গেল। কিন্তু কেন? একদৃষ্টে কোন একটি লক্ষ্যের প্রতি অনেকক্ষণ একমনে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে থাকার দরুন একটা শক্তিস্রোতের সৃষ্টি হয় । এই কম্পন শক্তি তেলাপোকার প্রতি অণু-পরমাণুতে ধাক্কা দিতে লাগল যার ফলে, তেলাপোকাটির স্বাভাবিক কম্পনশক্তি ফিরে এল। অবশেষে পোকাটি হেঁটে চলে গেল। এক্ষেত্রে এটা বলার দরকার যে তেলাপোকাটির হাত-পা বা অন্যান্য শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গাদি সবই ঠিক ছিল। এটা শ্রীশ্রীঠাকুর কোন পরীক্ষা হিসেবে করেননি, এরকম ঘটনা তাঁর জীবনে বহু ঘটেছে। তাই এরকম ঘটনা থেকে এটা বলা যায় যে, কারো যদি অকাল-মৃত্যু হয় তাও তা আরোগ্যের মধ্যে। যেসব মৃত্যুতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গাদি নষ্ট হয় না— যেমন হার্ট ফেল করা, জলে ডুবে মরা, কলেরায় মৃত্যু— এ সব মৃত্যুতে মানুষকে বাঁচান যায়। জীবনের তীক্ষ্ণ তেজী দ্যোতনী (stimulant) শব্দ কম্পনের অনুপ্রবেশ দ্বারা তাদের পুনর্জীবিত করে তোলা (by induction of life energy) যায়। ঠাকুর বলেন Death is a curable disease. (মৃত্যু এক আরোগ্যসাধ্য ব্যাধি)।
একদিন এ সম্বন্ধে গল্প করতে করতে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন — “একটি মরা মানুষকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তখনও আগুন দেয় নাই। মরা মানুষটি বেঁচে উঠেছে। আবার এটাও শুনেছি যে, শ্মশানে মরা মানুষকে নিয়ে গেছে। চিতাতে রেখেছে। নিচে দিয়ে আগুন দিয়েছে। আগুন তখনও ঠিকমত লাগেনি। পিঠ পোড়েনি। অথচ ঐ heat-র (উত্তাপের) ঠেলায় মরা খাড়া হয়ে উঠেছে।” (আলোচনা, পৌষ ১৩৯৩)।
এই ভাইব্রোমিটার যন্ত্র সম্বন্ধে তিনি আরো বলেন- “তড়িৎ-শক্তি কোষগুলিকে কর্মঠ করে রাখে। কোষগুলিরও তাদের নিজেদের রকমে স্পন্দন আছে। কোষগুলিকে যদি বিহিতভাবে উত্তেজিত করা যায় তবে কাজ হয়। নার্ভকোষগুলিকে উত্তেজিত করতে হয়। তা যন্ত্রের সাহায্যেই হোক বা অন্য যে কোন উপায়েই হোক, করতে পারলে তারপর পরখ করতে হয়, কী ফল পেলে। ইলেকট্রোমিটার যন্ত্র দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হচ্ছে কিনা তা দেখা যায়। আমি তেলাপোকার বেলায় দেখেছি যে, এটা অসম্ভব নয়। আকন্দ গাছের বেলায়ও দেখেছি। তখন আমি খুব নাম করতাম। একটা আকন্দ গাছকে স্পর্শ করলাম। গাছটি নড়ে উঠল। তাতে মনে হয়, জীবনীয় শক্তি (vital energy) যদি বিহিতভাবে সঞ্চারিত করা যায় তবে সুফল পাওয়া যেতে পারে।”
শ্রীশ্রীঠাকুর একসময় একটি গুবরে পোকাকে মৃতবৎ দেখেন। তার দিকে তাকিয়ে ঠাকুর নাম করতে থাকেন। সে সম্বন্ধে তিনি বলেছেন— “গুবরে পোকাটির বুকের কিছু অংশ ছিল না। তার অঙ্গ নষ্ট হয়ে যাওয়াতে সে আর উঠতে পারল না। গুবরে পোকাটির হার্ট ও নার্ভ ঠিক ছিল। কিন্তু অন্যঅঙ্গগুলি (organs) ঠিক না থাকাতে তাকে আর ঠেলে তোলা গেল না। ঐরকম একটি যন্ত্র বের করতে পারলে হয়।” (আলোচনা চৈত্র, ১৩৯৩)।
গুবরে পোকাটির দিকে দেখে তিনি নাম করেছিলেন। যদিও তাকে তিনি প্রায় বাঁচিয়ে তুলেছিলেন, কিন্তু গুবরে পোকাটির প্রধান অঙ্গগুলি নষ্ট হয়ে যাওয়াতে তাকে বাঁচিয়ে রাখা যায়নি। এসব থেকে এটা স্পষ্ট বোঝা গেল যে, আমাদের শরীরে কম্পন আছে। তা কোষের সংযোজনী সম্বেগ-সমবায়েই সৃষ্টি হয়েছে, যদিও এর মূল কারণ ইলেকট্রনিক কম্পন (Electronic throbbing)। যখন একটা পরমাণুর সাথে আর একটা পরমাণুর, একটা অণুর সাথে আর একটা অণুর যোগাযোগ থাকে না, তখন তা জীবনীয় লওয়াজিমা অর্থাৎ পুষ্টি আহরণ করতে পারে না। তখনই তাকে আমরা অচেতন বলে আখ্যা দিয়ে থাকি। একখানা ইটের মধ্যে যে অণুগুলি আছে সেগুলি একটা থেকে আর একটা কিছু আহরণ করতে পারে না, শুধু পরস্পর আড়াআড়িভাবে লেগে আছে। পক্ষান্তরে, মানুষের মধ্যে যে অণুগুলি আছে তারা একটা আরেকটার সাথে আদান- প্রদানের সম্পর্কে যুক্ত। এই আদান-প্রদান চলে বলেই বা যোগাযোগ সম্বেগ আছে বলেই আমাদের শরীর-বিধান ঠিক আছে। আমরা আহার করতে পারি, দৌড়োতে পারি, যা খুশি ইচ্ছামত তা করতে পারি। এই জন্যেই বলে, জীবন আছে, অর্থাৎ চেতনা আছে।
“শ্রেয়নিষ্ঠ ভক্তিটি নিয়ে
চললে বিজ্ঞান ঐ পথে,
সব সমাহারী সঙ্গতি নিয়ে
সার্থক হয়ে ওঠে তা’তে;
প্রতিটি ব্যষ্টির সৃষ্টির সাথে
সঙ্গতিশীল মন্দে-ভালয়,
সংহতি নিয়ে সংযত প্ৰাণে
দাঁড়া না বিজ্ঞান সেই আলোয়।”
—শ্রীশ্রীঠাকুর
#শ্রীশ্রীঠাকুরের_আলোকে_বিজ্ঞান
#thakurear_Aloke_bighean
তৃতীয় সংস্করণ
মণিলাল চক্রবর্তী
https://www.Amritokatha.in



10